New Menber

রক্ত দেয়ার আগেই জেনে নিন কিছু জরুরি তথ্য

রক্ত দেয়া কেন প্রয়োজন?

একমাত্র রক্তদানের মাধ্যমেই আপনি চাইলে অন্য একটা মানুষের জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে পারেন। তাই রক্তদানকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও নিঃস্বার্থ উপহার হিসেবে ধরা হয়। রক্তদানের পর প্রচণ্ড মানসিক প্রশান্তিও লাভ করা যায়। সুস্থ, সবল, নিরোগ একজন মানুষ প্রতি তিন মাস অন্তর রক্ত দিতে পারেন। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

দুর্ঘটনায় আহত, ক্যান্সার বা অন্য কোন জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য, অস্ত্রোপচার কিংবা সন্তান প্রসব অথবা থ্যালাসেমিয়ার মতো বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে রক্তদান শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

রক্ত দেয়ার উপকারিতা:

দেশের বিভিন্ন ব্লাডব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় নিয়মিত রক্ত দেয়ার কিছু উপকার রয়েছে। সেগুলো হলো:

১. এতে একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।
২. নিয়মিত রক্তদাতাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
৩. বছরে তিনবার রক্ত দিলে শরীরে নতুন লোহিত কণিকা তৈরির হার বেড়ে যায়। এতে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে। দ্রুত রক্ত স্বল্পতা পূরণ হয়।
৪. রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা কমে যায়, এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
৫. রক্ত দিলে যে ক্যালোরি খরচ হয়, তা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৬. শরীরে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, জন্ডিস, ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, এইচআইভি বা এইডসের মতো বড় কোন রোগ আছে কি না, সেটি বিনা খরচে জানা যায়।
৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
৮. নিয়মিত রক্তদানে বার্ধক্যজনিত জটিলতা দেরিতে আসে
৯. রক্তদাতার যদি নিজের কখনো রক্তের প্রয়োজন হয় তাহলে ব্লাড ব্যাংকগুলো তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রক্তের ব্যবস্থা করে দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বের ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষ রক্ত দিয়ে থাকে। তবে উন্নত বিশ্বে স্বেচ্ছা রক্তদানের হার প্রতি এক হাজারে ৪০ জন হলেও উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রতি এক হাজারে ৪ জনেরও কম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য ২০২০ সালের মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে চাহিদার শতভাগ রক্তের সরবরাহ নিশ্চিত করা।

এই লক্ষ্যে প্রতিবছরের ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালন হয়ে আসছে। মূলত যারা মানুষের জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করেন তাদের দানের মূল্যায়ন, স্বীকৃতি দিতে সেইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে রক্তদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দিবসটি পালন করা হয়।

কারা রক্ত দিতে পারবেন?

চিকিৎসকদের মতে প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ নারী-পুরুষ চাইলেই নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ত দিতে পারেন।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান ড. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে শারীরিকভাবে সুস্থ নারী ও পুরুষ রক্ত দিতে সক্ষম।
এক্ষেত্রে পুরুষের ওজন থাকতে হবে অন্তত ৪৮ কেজি এবং নারীর অন্তত ৪৫ কেজি।
এছাড়া রক্তদানের সময় রক্তদাতার তাপমাত্রা ৯৯.৫ ফারেনহাইটের নিচে এবং নাড়ির গতি ৭০ থেকে ৯০ এর মধ্যে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকতে হবে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে রক্তের হিমোগ্লোবিন প্রতি ডেসিলিটারে ১৫ গ্রাম এবং নারীদের ক্ষেত্রে ১৪ গ্রাম হওয়া দরকার।
রক্তদাতাকে অবশ্যই ভাইরাসজনিত রোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং চর্মরোগ মুক্ত থাকতে হবে।
সাধারণত ৯০ দিন পর পর, অর্থাৎ তিন মাস পর পর রক্ত দেওয়া যাবে।
সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের শরীরে ৪ থেকে ৬ লিটার পরিমাণ রক্ত থাকে। প্রতিবার ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত দেয়া হয়।
এ কারণে রক্ত দিলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারেই নেই।

কে কাকে রক্ত দিতে পারবে?

রক্তের গ্রুপ মোট ৮ ধরণের: এবি পজিটিভ, এবি নেগেটিভ, এ পজিটিভ, এ নেগেটিভ, বি পজিটিভ, বি নেগেটিভ, এবং ও পজিটিভ, ও নেগেটিভ।

জীবদ্দশায় কতজন মানুষকে রক্ত দেওয়া যায়?

এখন প্রশ্ন হলো একজন মানুষ তার জীবদ্দশায় কতজন মানুষকে রক্ত দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন? অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক জেমস হ্যারিসন এমন এক ব্যক্তি যিনি একাই ২০ লাখ শিশুকে রক্ত দিয়েছেন।

এতোগুলো শিশুকে সেবা দিয়েছেন স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে নিজের রক্ত ও রক্তের উপাদান প্লাজমা দানের মাধ্যমে। এজন্য গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজের নামও লিখিয়েছেন তিনি।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে জরুরি অস্ত্রোপচারের কারণে ১৩ লিটার রক্তের প্রয়োজন হয়েছিলো হ্যারিসনের। সে যাত্রায় রক্ত পেয়ে প্রাণ বেঁচে যায় তার। এরপর বয়স ১৮ বছর হতেই নিয়মিত রক্তদান করতে শুরু করেন তিনি।

রক্তদানের পর কী করবেন?

রক্তদানের ১ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে খাবার এবং অন্তত ৫০০ মিলি পানীয় গ্রহণ করুন। ক্ষুধার্ত অবস্থায় রক্তদান করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

রক্তদানের পরের ২৪ ঘণ্টায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ গ্লাস পানি বেশি পান করবেন।

রক্তদানের পর ১০-১৫ মিনিট বিশ্রাম নেবেন।

রক্তদানের পর ঝুঁকিপূর্ণ ও ভারী কাজ যেমন গাড়ি চালানো, ব্যায়াম করা ইত্যাদি থেকে অন্তত একদিন বিরত থাকবেন।

রক্তদান–পরবর্তী কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ রক্ত সংগ্রহকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।

রক্ত দেয়ার পর কী হয়?

রক্ত দেয়ার পর কিছুটা মাথা ঘোরাতে পারে। এটা স্বাভাবিক।
তবে এ সময় হাঁটাহাঁটি না করে অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা বিশ্রাম নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ড. সিরাজুল ইসলাম।
রক্তদাতা যদি ঘামতে থাকেন এবং অস্থিরতা হয়, তবে তাকে স্যালাইন খাওয়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
রক্ত দেয়ার পর লোহিত রক্তকণিকার মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে অন্তত এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে বলে উল্লেখ করেন ড. সিরাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, রক্ত দেয়ার সময় শরীর থেকে রক্তের পাশাপাশি ২৫০-৩০০ মিলিগ্রাম আয়রন কমে যায় তাই তার ক্ষয়পূরণে আয়রন ও প্রোটিনযুক্ত খাবার বেশি বেশি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রক্ত কেন দেবেন?

রক্তদানের বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে। রক্তদান করার সাথে সাথে আমাদের শরীরের মধ্যে অবস্থিত ‘বোন ম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয় এবং দান করার দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন রক্ত কণিকা জন্ম হয়ে এ ঘাটতি পূরণ করে। বছরে তিনবার রক্তদান রক্তদাতার লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরে আয়রণের ভারসাম্য বজায় থাকে।

দুর্ঘটনায় আহত, ক্যান্সার বা অন্য কোন জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য, অস্ত্রোপচার কিংবা সন্তান প্রসব অথবা থ্যালাসেমিয়ার মতো বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় রক্তদাতার সংখ্যা এখনো নগণ্য।


পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বছরে নয় থেকে দশ লাখ ব্যাগ রক্তের চাহিদা থাকলেও রক্ত সংগ্রহ হয় ছয় থেকে সাড়ে ছয় লাখ ব্যাগ। ঘাটতি থাকে তিন লাখ ব্যাগের বেশি। এছাড়া সংগ্রহকৃত রক্তের মাত্র ৩০ শতাংশ আসে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের থেকে।

নিজের পরিবারের সদস্য বা পরিচিতজন না হলে এখনো বেশিরভাগ মানুষ রক্তের জন্য নির্ভর করেন পেশাদার রক্তদাতার ওপর। রক্তের অভাবের কারণে প্রতিবছর বহু রোগীর প্রাণ সংকটের মুখ পড়ে। এক ব্যাগ রক্ত দিতে সময় লাগে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিট। এই অল্প সময়ে চাইলেই একজনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

নারীদের জন্য নির্দেশনা

১. গর্ভকালীন ও প্রসব–পরবর্তী বা গর্ভপাতের পর ছয় মাস পর্যন্ত রক্ত দান করা যাবে না।

২. মায়েরা দুগ্ধদানের সময় রক্তদানে সাময়িক বিরত থাকবেন।

বিশ্ব রক্তদান দিবস

১৪ জুন, বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। প্রতিবছর ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদান দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও নিঃস্বার্থ উপহার রক্ত দান। মূলত থ্যালাসেমিয়া রোগীসহ অগণিত মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে পর্দার আড়ালে থাকা যেসব হৃদয়বান স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করেন তাদের দানের মূল্যায়ন, শ্রদ্ধা জানাতে, স্বীকৃতি দিতে সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যারা রক্তদানে ভয় পান তাদের ভয় দূর করে রক্তদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে এ দিবসটি পালন করা হয়।

এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো—জনগণকে রক্তদানে উৎসাহিত করা, স্বেচ্ছায় রক্তদানে সচেতন করা, নতুন রক্তদাতা তৈরি করা ও নিরাপদ রক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করা। এ দিবস পালনের আরও একটি উদ্দেশ্য দেশের জনগণকে প্রাণঘাতী রক্তবাহিত রোগ এইডস, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি ও অন্যান্য রোগ থেকে নিরাপদ রাখার জন্য স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্তের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালন এবং ২০০০ সালে 'নিরাপদ রক্ত'-এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৪ সালে প্রথম পালিত হয়েছিল বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ দিবস পালনের জন্য তাগিদ দিয়ে আসছে।

২০০৪ সাল থেকে ১৪ জুনকে 'বিশ্ব রক্তদাতা দিবস' হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালন করা হচ্ছে। স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে যারা লাখো মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সহায়তা করছেন তাদের লক্ষ্য করেই এ দিবসটি পালিত হয়।

১৪ জুন দিবসটি পালনের আরও একটি তাৎপর্য রয়েছে। এদিন জন্ম হয়েছিল বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টিনারের। এই নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছিলেন রক্তের গ্রুপ 'এ, বি, ও, এবি'। স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানকারী আড়ালে থাকা সেসব মানুষের উদ্দেশ্যে, এসব অজানা বীরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত ১৪ জুনের বিশ্ব রক্তদান দিবস।

রক্তদানে যেসব ভয় ও বাধা কাজ করে

সুঁইয়ের ভয়

অনেকের কাছেই সুঁইয়ের ভয় একটি আতঙ্কের আরেক নাম। আমাদের সবারই জীবদ্দশায় এই সুঁই গ্রহণের অভিজ্ঞতা আছে অথচ পিঁপড়ার কামড়ের চেয়েও নগন্য এই বিষয়টিকে আমরা তবুও যমের মত ভয় করে চলেছি। সুঁইয়ের ভয় কিছুই নয়, প্রয়োজন শুধু মনোবল সঞ্চয়।

অসুস্থ হবো, দুর্বল হয়ে পড়ব

মজার বিষয় হচ্ছে হেডলাইনের এই অমূলক কথাটি বাস্তব সত্য এর পুরোপুরি উল্টো। রক্তদান- বিভিন্ন ক্যান্সার যেমন ফুসফুস, লিভার, কোলন, পাকস্থলী ও থাইরয়েড ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো ও হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ অগণিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম। রক্তদান করা মাত্রই দেহ নতুন রক্তকণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়। ফলে সুস্থতা, প্রাণবন্ততা আর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় পূর্বাপেক্ষা বহুগুণ!

পরিবারের বাধা

রক্তদানে তরুণ-তরুণীদের সিংহভাগেরই বাধা তাদের পরিবার। যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে রক্তদান সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণার চর্চাই আজকের এই বাধার প্রধান কারণ। বাস্তবতা হচ্ছে, রক্ত দেয়া হোক কিংবা না হোক, নির্দিষ্ট একটা সময়ের ব্যবধানে রক্ত এমনিই বিনষ্ট হয়ে যায়। কাজেই নিকটাত্মীয় বা বন্ধুর প্রয়োজনে রক্ত জমিয়ে রাখার সুযোগ নেই। যেমন, রক্তের প্রধান তিন উপাদানের একটি- অনুচক্রিকার আয়ু ৮-৯ দিন, শ্বেতকণিকার আয়ু ১৩-২০ দিন এবং লোহিত কণিকার আয়ু ১২০ দিন। নির্দিষ্ট এ সময় পর কণিকাগুলো নিজে নিজেই ধ্বংস হয়ে যায়। সুতরাং, রক্ত যদি দেওয়া হয় তাহলে আপনিও হতে পারেন একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচানোর কারণ। একজন অচেনা মুমূর্ষের প্রয়োজনে রক্তদান প্রকৃতির প্রতিদান অনুসারেই আপনার নিকট আপনার প্রয়োজনে ফিরে আসবে,ইনশাআল্লাহ।

অন্যরা তো দিচ্ছেই!

আপনি নিজেও তো এই অন্যজনের মধ্যেই পড়েন। এখন আপনি যদি না দেন তাহলে অন্যরা আর কিভাবে দিচ্ছে? কজনই বা দিচ্ছে? আপনি জানেন কি? আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রয়োজনীয় রক্তের মাত্র ২৫ ভাগ দেন স্বেচ্ছা রক্তদাতারা। বাকি ৭৫ ভাগই দেয় পেশাদার রক্ত বিক্রেতারা অথবা রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা। তার মানে প্রয়োজনীয় রক্তের বড় অংশই কিন্তু মেটাতে হচ্ছে অনিরাপদ উৎস থেকে। রক্তদানের ভীতি কাটিয়ে আপনি কিন্তু এই নিরাপদ উৎসের অংশটা বাড়াতেই পারেন।

রক্ত দিতে গিয়ে যদি কোনো রোগের সংক্রমণ হয়!

এটা এক অমূলক ভয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) রক্ত পরিসঞ্চালনের যে সেফটি স্ট্যান্ডার্ড বেঁধে দিয়েছে সেটা পুরোপুরি মেনে চললে রোগ সংক্রমণের কোনো সুযোগই নেই। কারণ রক্ত দেয়ার সময় একজন ডোনারের মিনি মেডিকেল চেক আপ থেকে শুরু করে রক্তদানের পুরো প্রক্রিয়ায় তার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। রক্তদানের সময় ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণ যাতে জীবাণুমুক্ত হয় এবং শুধুমাত্র একবারই ব্যবহার করা হয় তা নিশ্চিত করা হয়। এসব বর্জ্যকে যথাযথ স্থানে ফেলা হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করা হয়।

আমার শরীরে তো এমনিই রক্ত নেই, আমি কী রক্ত দেব!

এহেন ভাবনা অনেককে রক্তদানে নিরুৎসাহিত করে। কিন্তু আপনি কি জানেন আপনার দেয়া যে রক্তটুকু আরেকটি মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে, আপনার নিজের জন্যে তা বাড়তি? ৫০ কেজি ওজনের পূর্ণবয়স্ক একজন পুরুষদেহের ১৩০০ mL রক্তই বাড়তি, নারীদের ক্ষেত্রে এটা ৮০০ mL । আর রক্ত নেওয়ার সময় একজন ডোনারের কাছ থেকে নেয়া হয় মাত্র ৩৫০-৪০০ (সর্বোচ্চ ৪৫০)mL রক্ত, যা এই বাড়তি রক্তের অর্ধেকেরও কম। আর এর ক্ষয়পূরণও হয় খুব দ্রুত ।

Donation Process

The donation process from the time you arrive center until the time you leave

1 - Registration

Ut wisi enim ad minim veniam, quis laore nostrud exerci tation ulm hedi corper turet suscipit lobortis

2 - Seeing

Ut wisi enim ad minim veniam, quis laore nostrud exerci tation ulm hedi corper turet suscipit lobortis

3 - Donation

Ut wisi enim ad minim veniam, quis laore nostrud exerci tation ulm hedi corper turet suscipit lobortis

4 - Save Life

Ut wisi enim ad minim veniam, quis laore nostrud exerci tation ulm hedi corper turet suscipit lobortis

Latest Blog

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Fusce fringilla vel nisl a dictum. Donec ut est arcu. Donec hendrerit velit consectetur adipiscing elit.

Latest News about Smarteye

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Fusce fringilla vel nisl a dictum. Donec ut est arcu. Donec hendrerit consectetur adipiscing elit.

27 Comments / Blog Design / Read More

Apple Launch its New Phone

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Fusce fringilla vel nisl a dictum. Donec ut est arcu. Donec hendrerit consectetur adipiscing elit.

27 Comments / Blog Design / Read More

About Windows 10 Update

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Fusce fringilla vel nisl a dictum. Donec ut est arcu. Donec hendrerit consectetur adipiscing elit.

27 Comments / Blog Design / Read More

Latest News about Smarteye

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Fusce fringilla vel nisl a dictum. Donec ut est arcu. Donec hendrerit consectetur adipiscing elit.

27 Comments / Blog Design / Read More